আজকের প্রবন্ধ বইমেলা বা বই মেলার গুরুত্ব। আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ তুলে ধরেছি। আজকের প্রবন্ধটিও মাধ্যমিক পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিশেষ সহায়ক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমস্ত প্রবন্ধের লিংক নীচে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে আছে প্রশ্নোত্তরের লিংকও। আগ্রহী ছাত্রছাত্রী তা দেখে নিতে পারো।
আজকের প্রবন্ধ কেমন লাগল তা জানিয়ে মন্তব্য কর। আমাদের এই ওয়েবসাইটের নির্মিতি বিভাগ থেকে প্রতিবেদন রচনা, ভাব সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য দেখে নাও। এছাড়া নবম শ্রেণি, দশম শ্রেণি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পাঠ্যের প্রশ্ন উত্তর ও মক টেস্ট পাবে। এছাড়া আর কোন বিষয়ে তোমাদের সহায়তা প্রয়োজন তা কমেন্ট করে জানাতে পারো।
বইমেলা – ভূমিকা
মেলা মানেই বাংলার উৎসব, সংস্কৃতির পরিচয়, এক মহামিলন স্থল। এক সময় নবগোপাল মিত্র অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু মেলা’কে কেন্দ্র করে বাংলার নবজাগরণ দেখা দিয়েছিল। তারপর বর্তমানে বই মেলাকে কেন্দ্র করেও বাঙালির মধ্যে একটা জাগরণ দেখা দিয়েছে বলা যায়। বই মেলা কেবল মানুষের মিলনস্থল নয়, জ্ঞান আহরণ কেন্দ্রও বটে।
বই মেলার পরিচয়
বই মানেই জ্ঞান আহরণের একটি বড় মাধ্যম। তাই একসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জার্মানিতে প্রতি বছর বৃহৎ মেলার অঙ্গ হিসেবে বইয়ের প্রদর্শনী বসে। পরবর্তী কালে একটি স্বতন্ত্র মেলা রূপে বইমেলার প্রচলন হয়। এই বিশ্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বইমেলার মধ্যে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটের বইমেলাটি সর্বাপেক্ষা বৃহৎ। আমাদের রাজ্যে ১৯৭৬ সালে প্রথম বইমেলার সূচনা হয়। সেই ধারা আজও অব্যাহত।
বইয়ের গুরুত্ব
জ্ঞান পিপাসু মানুষের অন্যতম রসদ হল বই। বই হল আয়নার মতো। তাতে ধরা পড়ে আমাদের মন, সমাজ মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। এই পৃথিবীতে একটি বইয়ের মতো সঙ্গী আর কিছু হতে পারে না। বই আমাদের নিঃসঙ্গ মুহূর্ত দূর করে। শিশু, কিশোর কিশোরীর কাছে বই দিগদর্শন হিসেবে কাজ করে। সেই বই নিয়ে যখন মেলার আয়োজন করা হয় তখন তা সাধারণ মিলনক্ষেত্র থেকে যেন এক অন্য মাত্রা লাভ করে। তা সাধারণভাবে অনুষ্ঠিত রথের মেলা বা মকর সংক্রান্তির মেলা থেকে একটু স্বতন্ত্র। বই-মেলা বইপ্রেমী মানুষেরই মিলনতীর্থ।
মেলার গুরুত্ব
বইকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে এক হৃদ্য পরিবেশ তৈরি হয়। গড়ে ওঠে সামাজিক মেলবন্ধন। বইমেলায় পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতারা নানা বিষয়ে নানা স্বাদের বই নিয়ে আসেন। তা বিভিন্ন রুচির মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। অনেকের সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই, তারাও বইমেলায় এসে বিভিন্ন বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। বইমেলা শুধু বই প্রদর্শনীই নয়, জ্ঞানের অফুরন্ত ভাণ্ডারকে আমাদের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়। এই মিলনমেলায় পাঠক বিপুল পরিমাণ বইয়ের সান্নিধ্যে এসে মানসিক তৃপ্তি পায়। চোখ ও মনের আনন্দ দেয় এই বইমেলা। অন্যদিকে, প্রকাশক ও বিক্রেতাদের জন্যও এই বইমেলা আশীর্বাদ স্বরূপ।
পশ্চিমবঙ্গের বই মেলা
বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় সবদেশেই বই মেলার আয়োজন করা হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও বই-মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের রাজ্যে আয়োজিত কলকাতা বইমেলা আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হয়েছে। শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সাত-দশ দিনের বই-মেলা হয়। জেলাভিত্তিক বইমেলায় গ্রাম ও শহরের প্রায় সর্বস্তরের মানুষ ভিড় করেন। যারা নানা কারণে বই কিনতে পারেন না বা পড়ার সুযোগ পান না, এইসব মেলায় এসে তারা নিত্য নতুন বই হাতে করে দেখতে ও পড়তে পারেন। তাছাড়া জেলার বই-মেলায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মনে বইয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালবাসা আরও বৃদ্ধি পাবে তা বলাই বাহুল্য।
উপসংহার
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “মানুষ বই দিয়ে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সাঁকো বেঁধে দিয়েছে।” সমাজ, সভ্যতা ও মানব জীবনের প্রতিবিম্বকে স্থায়ীরূপে ধরে রাখে বই। সুখ-দুঃখ, ভালাে-মন্দ নিয়েই মানুষের জীবন। সেই জীবনের আনন্দ মেলা হল বই-মেলা। মেলায় সর্বশ্রেণির মানুষ যেমন তার আনন্দকে খুঁজে পায় তেমনি নবীন লেখকদের প্রতিভা বিকাশের উন্মুক্ত ক্ষেত্র। বহু নতুন লেখকের রচনা প্রকাশিত হয় বইমেলায়। তাই সকলের জন্যই বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। জ্ঞানের বিস্তার করে, জ্ঞানের সন্ধান দিয়ে বই-মেলা তাই হয়ে ওঠে আর পাঁচটা মেলার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অন্যান্য প্রবন্ধ
| বাংলার উৎসব |
| পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার |
| বিজ্ঞান ও কুসংস্কার |
| শিক্ষাবিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা |
| খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা |
| বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা |
আমাদের মোবাইল অ্যাপ – আমরা সকলের জন্য নিয়ে এসেছি বাংলা ব্যাকরণ অভিধান অ্যাপ যা বাংলা ব্যাকরণের বৃহত্তম একটি ডিজিটাল অ্যাপ। অ্যাপটি সম্পর্কে একঝলক দেখে নিতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর।


