দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমাদের আজকের আলোচনা অভিষেক কবিতা। কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা বিখ্যাত একটি কাব্যের অংশ বিশেষ। আমরা এর আগে বহুরূপী গল্পের নানা তথ্য ও প্রশ্নোত্তর আলোচনা করেছি। এছাড়া ক্রমাণ্বয়ে অন্যান্য গল্প কবিতার আলোচনাও হয়েছে। তোমরা এই কবিতার ভিডিও আলোচনা দেখতে এখানে ক্লিক কর।
অভিষেক কবিতা – প্রাসঙ্গিক তথ্য
১. ’অভিষেক’ কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র প্রথম সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে।
২. কাব্যটি নয়টি সর্গে বিভক্ত। প্রথম সর্গের নাম ‘অভিষেক’।
শব্দার্থ
অম্বুরাশি সূতা = দেবী লক্ষ্মী, প্রিয়ানুজ = বীরবাহু, বৈরিদল = শত্রুদল, কুসুমদাম = ফুলমালা, দশাননাত্মজ = মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎ, রথীন্দ্রর্ষভ = শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা (মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে), কিরীটি = মুকুটধারী, শমীবৃক্ষ = বাবলা জাতীয় গাছ, মাতঙ্গ = হাতি, পক্ষীন্দ্র = পাখিদের শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ গড়ুর, কর্বুরদল = রাক্ষসদল, মেঘবাহন = ইন্দ্র, গঙ্গোদক = গঙ্গার জল
এককথায় প্রশ্নোত্তর
১. ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি কার লেখা ?
উঃ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের
২. আলোচ্য কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উঃ মেঘনাদবধ কাব্য
৩. অভিষেক কবিতাটি ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র কোন সর্গ থেকে নেওয়া ?
উঃ প্রথম সর্গ
৪. অভিষেক কবিতায় প্রথম চরণে ব্যবহৃত ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ বলে কবি কাকে বুঝিয়েছেন ?
উঃ ইন্দ্রজিৎকে
৫. ‘প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে’ – ‘ধাত্রী’ কে ?
উঃ লক্ষ্মীদেবী
৬. ‘হায় ! পুত্র, কি আর কহিব’ – বক্তা কে ?
উঃ অম্বুরাশি-সূতা
৭. ‘অম্বুরাশি-সূতা’র কথায় বীরবাহু কে ছিলেন ?
উঃ ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই
৮. ইন্দ্রজিৎ কাকে ‘ভগবতি’ সম্বোধন করেছেন ?
উঃ দেবী লক্ষ্মীকে
৯. ‘——– সংহারিনু আমি রঘুবরে’ – শূন্যস্থান পূরণ কর।
উঃ নিশা-রণে
১০. লক্ষ্মীদেবীর দেওয়া ‘বারতা’কে ইন্দ্রজিৎ কীভাবে দেখেছে ?
উঃ অদ্ভুত
১১. ‘মায়াবী মানব’ বিশেষণটি কার সম্পর্কে প্রয়োগ করা হয়েছে ?
উঃ রাম
১২. ‘ফেলাইলা ——– দূরে’ – ইন্দ্রজিৎ কী ফেললেন ?
উঃ কনক-বলয়
১৩. ‘দশাননাত্মজ আমি ইন্দ্রজিৎ’ – ‘দশাননাত্মজ’ শব্দটির অর্থ কী ?
উঃ দশাননের পুত্র
১৪. ‘যেমতি হেমলতা আলিঙ্গয়ে তরু-কুলেশ্বরে’ – চরণটিতে ‘হেমলতা’ কাকে বোঝানো হয়েছে ?
উঃ প্রমীলাকে
১৫. ‘কোথা প্রাণসখে রাখি এ দাসীরে’ – বাক্যটিকে কে নিজেকে ‘দাসী’ বলেছেন ?
উঃ প্রমীলা
১৬. ‘তবে কেন তুমি, গুণনিধি, ত্যজ ——– আজি’ – শূন্যস্থান পূরণ কর।
উঃ কিঙ্করীরে
১৭. ইন্দ্রজিৎ প্রমীলার উদ্দেশ্যে কোন কোন সম্বোধন করেছে ?
উঃ সতী, কল্যাণী, বিধুমুখী
১৮. ইন্দ্রজিতের রথকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন ?
উঃ মৈনাক-শৈল
১৯. ‘কাঁপিলা ——-, কাঁপিলা ——–‘ শূন্যস্থান দুটিতে সঠিক শব্দদ্বয় কী কী ?
উঃ লঙ্কা, জলধি
২০. অভিষেক কবিতার কোন স্তবকে রাবণ ও ইন্দ্রজিতের সাক্ষাৎ হয়েছে ?
উঃ নবম স্তবকে
২১. ‘কিন্তু অনুমতি দেহ’ – বক্তা কোন অনুমতি চেয়েছেন ?
উঃ শত্রুকে সমূলে বিনাশ করার
২২. অভিষেক কবিতায় কাকে ‘রাক্ষস-কুল-শেখর’ বলা হয়েছে ?
উঃ ইন্দ্রজিৎকে
২৩. ‘হায়, বিধি বাম মম প্রতি’ – উক্তিটির বক্তা কে ?
উঃ রাবণ
২৪. ‘কে কবে শুনেছে পুত্র’ – বক্তা কোন কথা শোনার বিষয়ে বলেছেন ?
উঃ জলে শিলা ভাসার কথা এবং মৃত লোকের পুনরায় বেঁচে ওঠার কথা
২৫. আলোচ্য কবিতায় কাকে ‘অসুরারি-রিপু’ বলা হয়েছে ?
উঃ ইন্দ্রজিৎকে
২৬. ‘তায় আমি জাগানু অকালে’ – কাকে জাগানোর কথা বলেছেন বক্তা ?
উঃ কুম্ভকর্ণকে
২৭. রাবণের কথায় কুম্ভকর্ণের দেহ কোথায় পড়ে রয়েছে ?
উঃ সিন্ধুতীরে
২৮. যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার আগে রাবণ ইন্দ্রজিৎকে কোন উপদেশ দিয়েছেন ?
উঃ ইষ্টদেবতার পুজো করতে
২৯. ‘——- পদে আমি বরিণু তোমারে’ – শূন্যস্থান পূরণ কর।
উঃ সেনাপতি
৩০. রাঘবের সঙ্গে সংগ্রামের জন্য রাবণ ইন্দ্রজিৎকে কোন সময় বেছে নিতে উপদেশ দিয়েছেন ?
উঃ প্রভাত
৩১. রাবণ ইন্দ্রজিৎকে কী দিয়ে অভিষেক করেছেন ?
উঃ গঙ্গাজল
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
১. ‘কহ দাসে লঙ্কার কুশল’ –কে কার কাছে ‘লঙ্কার কুশল’ জানতে চেয়েছে ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন সংবাদ শুনিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের অভিষেক কবিতার উদ্ধৃতাংশে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সূতা বা লক্ষ্মীদেবীর কাছে লঙ্কার কুশল জানতে চেয়েছেন।
ইন্দ্রজিতের প্রমোদ উদ্যানে এসে ছদ্মবেশী রমাদেবী ইন্দ্রজিৎকে অবগত করেন যে, রাঘবের সঙ্গে যুদ্ধে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহু বীরগতি লাভ করেছেন। আর এই কারণে পুত্রের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে রক্ষঃরাজ রাবণ যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
২. জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া –‘মহাবাহু’ কে ? তার বিস্ময়ের কারণ কী ? তিনি কী জিজ্ঞাসা করেছিলেন ?
উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের অভিষেক কবিতার উদ্ধৃতাংশে ‘মহাবাহু’ হলেন রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ।
এর আগে যুদ্ধে ইন্দ্রজিৎ রাঘবদের পরাজিত ও নিহত করেছিলেন। কিন্তু সেই রাঘবদের সঙ্গে যুদ্ধে তার প্রিয় ভাই বীরবাহু বীরগতি প্রাপ্ত করেছেন শুনে ইন্দ্রজিৎ বিস্মিত হয়েছেন। তাছাড়া তিনি বেঁচে থাকতে তার পিতা যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শুনেও ইন্দ্রজিৎ বিস্মিত হয়েছেন।
বিস্মিত ইন্দ্রজিৎ ছদ্মবেশী রমাদেবীর কাছে জানতে চেয়েছেন যে, নিশাযুদ্ধে রামকে হত্যা করার পরেও তার ভাই বীরবাহুকে কে হত্যা করল আর এই সংবাদ তিনি কোথায় পেলেন ?
দশম শ্রেণির মক টেস্ট দিতে ক্লিক কর।
৩. ঘুচাব এ অপবাদ, বধি রিপুকূলে –‘রিপুকূল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? কোন অপবাদের কথা এখানে বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ অভিষেক কবিতার আলোচ্য অংশে ‘রিপুকূল’ বলতে অযোধ্যাপতি দশরথের পুত্র রাম-লক্ষ্মণ ও তাঁদের বানর সেনাদের কথা বলা হয়েছে।
উদ্ধৃতাংশের বক্তা ইন্দ্রজিৎ তার প্রমোদ উদ্যানে আনন্দমগ্ন সময় কাটাচ্ছিলেন। এদিকে যুদ্ধে তার প্রিয় ভাই বীরবাহু নিহত হয়েছে। সমগ্র লঙ্কা শোকসাগরে নিমজ্জিত হয়েছে। ইন্দ্রজয়ী ইন্দ্রজিতের মনে হয়েছে তিনি বীর রাবণের সন্তান। তিনি নিজেও বীর। অথচ লঙ্কার এই দুঃসময়ে তিনি আপন আনন্দে মগ্ন রয়েছেন – এতে জগতে অপবাদ রটবে বলে তিনি মনে করেছেন।
৪. কোন প্রসঙ্গে কবি লিখেছেন – ‘কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি’ ?
উত্তরঃ মেঘনাদ ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ উদ্যানে থাকাকালীন ছদ্মবেশী লক্ষ্মীদেবীর কাছে জানতে পারেন, যুদ্ধে তার প্রিয় ভাই বীরবাহু নিহত হয়েছেন আর লঙ্কারাজ রাবণ তার প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই খবর শোনার পর বীর ইন্দ্রজিতের মনে ক্রোধের সঞ্চার হয়েছে। সন্তান থাকতে পিতা যুদ্ধে যাবেন এটা তার কাছে অপমানকরও মনে হয়েছে। তিনি তাই পত্নী প্রমীলার কাছে বিদায় নিয়ে রণসাজে সজ্জিত হয়ে আকাশমার্গে লঙ্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই সময় তিনি ধনুকের শিঞ্জিনী আকর্ষণ করে টঙ্কার ধ্বনি করলে তার ভয়াবহতা ও গাম্ভীর্যে সমগ্র আকাশ বাতাস কম্পিত হয়। এমনকি সমুদ্রের জলরাশিতে সেই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে ভয়াবহ কম্পনের সৃষ্টি করে। কবি ইন্দ্রজিতের এই রণসজ্জার প্রসঙ্গেই লিখেছেন ‘কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি’।
আমাদের অ্যাপ ডাউনলোড কর।
৫. হায়, বিধি বাম মম প্রতি –বক্তা কে ? বক্তার এমন আক্ষেপের কারণ কী ?
উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের অভিষেক কবিতার উদ্ধৃতাংশে কথাগুলির বক্তা রাবণ।
মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ রাবণ নিয়তিতাড়িত এক ট্র্যাজিক চরিত্র। তাঁর কাছে বীরত্ব, দেশপ্রেম, শক্তি, বীরপুত্র সকলই আছে কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায় তাঁকে বারেবারেই হারতে হয়েছে। ভাগ্যতাড়িত হয়েই তিনি অকালে প্রিয় ভ্রাতা কুম্ভকর্ণকে জাগিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। সেই যুদ্ধে কুম্ভকর্ণের মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে হারাতে হয়েছে প্রিয় পুত্র বীরবাহুকেও। বীরবাহুর মৃত্যু রাবণের প্রতি নিয়তির বিরূপতা প্রকট করে তুলেছে। কেননা যে রামচন্দ্রকে নিশারণে ইন্দ্রজিৎ হত্যা করেছিলেন সেই রামচন্দ্র দৈব অনুগ্রহে পুনর্জীবন লাভ করেছেন। রাবণও বুঝেছেন তাঁর প্রতি নিয়তির বিরূপতা। তাই তিনি বলেন – ‘কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে।’ নিয়তির বারংবার আঘাতে তিনি আজ বিপর্যস্ত, তিনি রামচন্দ্রের সঙ্গে এই যুদ্ধকে ‘কাল সমর’ বলে মনে করেন। সেই যুদ্ধে প্রিয় পুত্র ইন্দ্রজিৎকে পাঠাতে নারাজ। খুব সঙ্গত কারণেই রাবণ উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।
অন্যান্য আলোচনা
| প্রশ্নোত্তরের বিষয় | LINK |
|---|---|
| জ্ঞানচক্ষু | Click Here |
| অসুখী একজন | Click Here |
| আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি | Click Here |
| আফ্রিকা | Click Here |
| বহুরূপী | Click Here |
| অভিষেক | |
| সিরাজদৌল্লা | Click Here |
| প্রলয়োল্লাস | Click Here |
| পথের দাবী | Click Here |
| অদল বদল | Click Here |
| সিন্ধুতীরে | Click Here |
| বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান | Click Here |
| অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান | Click Here |
| নদীর বিদ্রোহ | Click Here |

