You are currently viewing বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধ – মূল বক্তব্য ও MCQ | দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা

বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধ – মূল বক্তব্য ও MCQ | দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা

উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারে দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা বিষয়ে আজ আমরা স্বামী বিবেকানন্দের বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের MCQ তুলে ধরেছি। তোমাদের WBCHSE এর নতুন সিলেবাস অনুসারে Class 12 এর জন্য এই প্রবন্ধটি পাঠ্য রয়েছে। আমরা বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের মূল বক্তব্য সহ সম্ভাব্য MCQ দিলাম। আশা করি এগুলি তোমাদের কাজে লাগবে। তোমাদের সেমিস্টার -৩ -এর জন্য পাঠ্য অন্যান্য বিষয়ের সমস্ত তথ্য পাবে এখানেই। সেই সঙ্গে থাকছে দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা মক টেস্ট। আমাদের পরামর্শ, MY EXAM CARE ওয়েবসাইটটি নিয়মিত দেখতে থাকো।

বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের মূল বক্তব্য

ভাষা হল মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে সংস্কৃত ভাষায় সমস্ত বিদ্যা প্রচলিত থাকার কারণে বিদ্বান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক বিরাট ব্যবধান তৈরি হয়েছিল যাকে লেখক বলেছেন ‘অপার সমুদ্র’। সাধারণ মানুষ সেই বিদ্যা সহজে গ্রহণ করতে পারত না। কিন্তু বুদ্ধদেব, শ্রীচৈতন্যদেব এবং শ্রীরামকৃষ্ণ যাঁরা মানুষের কল্যাণের কথা বলেছেন, তাঁরা সকলেই দৈনন্দিন প্রচলিত সহজ চলিত ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি, আমরাও যখন কোনো গভীর বিষয়ে চিন্তা করি, তখনও আমাদের অবলম্বন সাধারণ কথ্য ভাষাই।

কিন্তু তা-ই যখন আমরা লিখতে যাই তখন অনেক সময় সংস্কৃত ঘেঁষা কঠিন শব্দ ব্যবহার করি। সংস্কৃত ভাষার গদাই-লস্করি চাল নকল করতে গিয়ে লেখ্য বাংলা ভাষা অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম হয়ে পড়ে। অথচ স্বাভাবিকতাই ভাষার প্রাণ। আর ভাষা যত প্রাণবন্ত হবে ততই তার উন্নতি হবে। প্রসঙ্গত লেখক ‘কলকেতার ভাষা’র কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন উপভাষার প্রচলন থাকলেও কলকাতা শহরে নানা কারণে বহু মানুষের সমাগম হয়। তাই ধীরে ধীরে কলকাতার ভাষাই মান্য ভাষা হিসেবে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার পার্থক্যও কমে যাবে এবং চট্টগ্রাম থেকে বৈদ্যনাথ পর্যন্ত কলকাতার ভাষাই প্রচলিত হবে।

যখন এই ভাষা সকলের কাছে সহজে বোধগম্য হবে, তখন তাকেই ভাষার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক উপভাষার বিরোধ কাম্য নয়। ভাষার প্রকৃত কাজ হলো ভাব প্রকাশ করা, আর সেই ভাবটাই মুখ্য। কিন্তু বাংলা ভাষায় অধিক সমাস, বিশেষণ ও নানা অলংকার ব্যবহার করা হয়, তখন ভাষা তার স্বাভাবিক মাধুর্য হারায়। তাই প্রাবন্ধিকের মতে, সহজবোধ্য, স্বাভাবিক, সাবলীল কথ্য ভাষাই সাহিত্যের ভাষা হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের MCQ

প্রশ্নগুলি দেখো এবং বিকল্প থেকে সঠিক উত্তর নির্বাচন করো। তারপর শেষে আমাদের দেওয়া উত্তরগুলি দেখে তোমার উত্তর মিলিয়ে নাও।

১. প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশে কোন্‌ ভাষায় বিদ্যা চর্চা হয়ে আসছে ?
(ক) হিন্দি ভাষা
(খ) পালি ভাষা
(গ) সংস্কৃত ভাষা
(ঘ) তামিল ভাষা

২. ‘তাঁরা সকলেই সাধারণ লোকের ভাষায় সাধারণকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ – ‘তাঁরা’ কারা ?
(ক) যারা লোকহিতে কাজ করেছেন
(খ) যারা পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন
(গ) যারা ভাষার পরিমার্জনা করেছেন
(ঘ) যারা উপাসনা করেছেন

৩. লেখকের মতে ভাষা আসলে কী ?
(ক) গদাই-লস্করি চাল
(খ) উন্নতির প্রধান উপায়
(গ) পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের মাধ্যম
(ঘ) লোকহিতের লক্ষণ

৪. স্বামীজী কোন্‌ অঞ্চলের ভাষাকে ক্রমশ বলবান হয়ে ওঠা ভাষা বলেছেন ?
(ক) কলকাতার ভাষা
(খ) চট্টগ্রামের ভাষা
(গ) রাঢ়ের ভাষা
(ঘ) রাজশাহীর ভাষা

৫. ‘ভাষা ——– বাহক’ – লেখকের বক্তব্য অনুসারে শূন্যস্থানে সঠিক বিকল্প নির্বাচন করো।
(ক) প্রাণের
(খ) চিন্তার
(গ) দর্শনের
(ঘ) ভাবের

৬. ‘মহাভাষ্য’ কার লেখা ?
(ক) পাণিনির
(খ) পতঞ্জলির
(গ) শূবরস্বামীর
(ঘ) দণ্ডীর

৭. ‘বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধ’টিতে কাকে ‘আচার্য’ বলা হয়েছে ?
(ক) মহামুনি ব্যাসদেবকে
(খ) বুদ্ধদেবকে
(গ) শঙ্করাচার্যকে
(ঘ) আচার্য বামনকে

৮. ‘বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধ’টি কোন্‌ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ?
(ক) উদ্বোধন পত্রিকায়
(খ) সাহিত্য পত্রিকায়
(গ) ভারতবর্ষ পত্রিকায়
(ঘ) নববিধান পত্রিকায়

৯. ‘তা দু-হাজার ছাঁদি বিশেষণেও নাই।’ – কীসের কথা বলা হয়েছে ?
(ক) শিল্প
(খ) উদ্দেশ্য
(গ) ভঙ্গি
(ঘ) ভাবরাশি

১০. ‘মীমাংসাভাষ্য’ কার লেখা ?
(ক) আচার্য শঙ্করের লেখা
(খ) শূবরস্বামীর লেখা
(গ) পতঞ্জলির লেখা
(ঘ) চাণক্যের লেখা

১. (গ) সংস্কৃত ভাষা
২. (ক) যারা লোকহিতে কাজ করেছেন
৩. (ক) গদাই-লস্করি চাল
৪. (ক) কলকাতার ভাষা
৫. (ঘ) ভাবের
৬. (খ) পতঞ্জলির
৭. (গ) শঙ্করাচার্যকে
৮. (ক) উদ্বোধন পত্রিকায়
৯. (ঘ) ভাবরাশি
১০. (খ) শূবরস্বামীর লেখা


বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধ | দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা | বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের MCQ

অন্যান্য আলোচনা

আদরিণী গল্পের MCQ
ধর্ম কবিতার MCQ

Leave a Reply