You are currently viewing দাম গল্প – বিষয়বস্তু ও প্রশ্নোত্তর

দাম গল্প – বিষয়বস্তু ও প্রশ্নোত্তর

নবম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে একটি বিশেষ পাঠ্য দাম গল্পটি। আমরা দাম গল্পের বিষয়বস্তু ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর যেমন দেখে নেব। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্যেও নজর দেব। আশা করি আলোচনাটি তোমাদের সহায়ক হবে। তোমাদের অন্যান্য আলোচনাগুলি পেতে একেবারে নীচে দেওয়া তালিকা দেখ।

দাম গল্প – প্রাসঙ্গিক তথ্য

উৎসঃ ‘একজিবিশন’ গল্পগ্রন্থ

চরিত্রঃ সুকুমার (গল্প-কথক), মাস্টারমশাই

বিষয়বস্তু

‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার তার আত্মকথার মধ্য দিয়ে ছাত্র – শিক্ষকের স্নেহবৎসল ও আন্তরিক সম্পর্কটি তুলে ধরা হয়েছে। সুকুমার ছোটোবেলায় যে স্কুলে পড়তেন সেই স্কুলের গণিতের মাস্টারমশাই ছিলেন ভয়ঙ্কর। গণিতে তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। তাঁর শাসনও ছিল যথেষ্ট। কেউ অঙ্ক না পারলে তাকে ক্ষমা করতে পারতেন না তিনি। আসলে তিনি মনে করতেন অঙ্ক না পারাটা একপ্রকার পাপ – স্বর্গের দরজাও পেরোনো যায় না যদি অঙ্ক না জানা থাকে। ছাত্র অঙ্ক না পারলে নেমে আসত তাঁর প্রকান্ড হাতের চড়। এহেন ভয়ঙ্কর শিক্ষকের হাত থেকে সুকুমার রেহাই পেয়েছিলেন ম্যাট্রিকুলেশানের গণ্ডি পার হয়ে। কিন্তু সেই মাস্টারমশাই সুকুমারের স্মৃতিতে এক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েই বিরাজমান ছিলেন। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে আমরা পাই সুকুমারের লেখা গল্প – যা ঐ মাস্টারমশাইকে কেন্দ্র করে রচিত।

পরবর্তীতে সুকুমার কলেজে বাংলার অধ্যাপক হয়েছেন। বাংলাদেশের একটি সভায় তিনি অতিথি হয়েছেন। সেখানে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে এক বয়স্ক ভদ্রলোকের যার হাতে একটি পত্রিকা। ভদ্রলোকটি আর কেউ নন, সুকুমারের ছোটোবেলার গণিতের সেই ভয়ঙ্কর মাস্টারমশাই, যার গলার আওয়াজে এখনও সুকুমারের বুক লাফিয়ে ওঠে। মাস্টারমশাই ছাত্রের সাফল্যে খুব খুশি। পত্রিকায় প্রকাশিত নিজেকে নিয়ে লেখা সুকুমারের গল্পটি তিনি পড়ে অভিভূত, গর্বিত। এই সাক্ষাতেই সুকুমার বুঝে যান তিনি কী ভুল করেছেন ! মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে তিনি বিক্রি করেছেন মাস্টারমশাইয়ের স্নেহ, ভালবাসা, যা সংসারের সমস্ত ঐশ্বর্যকেও হার মানায়, যার দাম কোথাও কোনোভাবেই দেওয়া যায়না। নিজের অপরাধবোধে, লজ্জায় যেন মাটিতে মিশে যান সুকুমার।

এককথায় প্রশ্নোত্তর

১. ‘দাম’ গল্পের কথক কে ?
উঃ সুকুমার

২. ‘পৃথিবীতে যত অঙ্ক ছিল সব যেন ওঁর মুখস্থ’ – কার কথা বলা হয়েছে ?
উঃ মাস্টারমশাইয়ের

৩. ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলত – কী এগিয়ে চলত ?
উঃ মাস্টারমশাইয়ের হাতের খড়ি

৪. মাস্টারমশাই কোথায় ছুঁড়ে ফেলার কথা বলতেন ?
উঃ পুকুরে

৫. পত্রিকার কর্তৃপক্ষ লেখককে কত টাকা দিয়েছিল ?
উঃ দশ টাকা

৬. ‘মুহূর্তে আমার জিভ শুকিয়ে গেল’ – বক্তা একথা বলেছেন কেন ?
উঃ লজ্জায় ও আত্মগ্লানিতে

৭. ‘তারপর চোখে পড়ল’ – কী চোখে পড়ল ?
উঃ মানুষটিকে

৮. ‘দাম’ গল্পে কথক কী বর্ষণ করেছিলেন ?
উঃ সদুপদেশ

৯. ‘দাম’ গল্পের কলেজের প্রিন্সিপল বয়সে কেমন ছিলেন ?
উঃ বুড়ো

১০. এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব’ – কার উক্তি ?
উঃ সুকুমারের

১১. ‘ বেঁচে থাকো বাবা’ – বক্তা কে ?
উঃ মাস্টারমশাই

১২. ‘যে অঙ্ক জানে না তাঁর এখানে প্রবেশ নিষেধ’ – কার উক্তি ?
উঃ প্লেটোর

১৩. মাস্টারমশাই কীসের ছাত্র ছিলেন ?
উঃ বিজ্ঞানের

১৪. বাংলাদেশের একটি সভায় গল্পকথক রবীন্দ্রনাথ থেকে কয়টি উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন ?
উঃ বারোটি

১৫. গল্পকথকের ভাবনায় তিনি দশ টাকায় বিক্রী করেছিলেন –
উঃ মাস্টারমশাইকে

১৬. সুকুমারের কাছে পত্রিকা থেকে কীসের গল্প শোনানোর ফরমাশ এসেছিল ?
উঃ তাঁর ছেলেবেলার

১৭. ‘ওটা প্রীতির ব্যাপার, পদমর্যাদার নয়’ – ‘ওটা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উঃ ঘরোয়া গল্প পরিবেশন

১৮. আলোচ্য গল্পে কীসের পঞ্চত্ব প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে ?
উঃ গাধার

১৯. ‘তাই নিজের মধ্যে সন্দেহ জাগে’ – কোন বিষয়ে সন্দেহ জাগে ?
উঃ অঙ্কের হিসেব নিয়ে

২০. বাংলাদেশে পৌঁছলে সুকুমারের কাছে অটোগ্রাফের খাতা এসেছিল –
উঃ খানকয়েক

২১. রিটায়ার করার পর মাস্টারমশাই কোথায় বাস করছিলেন ?
উঃ বাংলাদেশে

২২. গল্পকথকের ভাবনায় ‘কোটি মণি-মাণিক্য দিয়ে’ কার পরিমাপ করা যায় না ?
উঃ স্নেহ

২৩. কীসের ‘দাম সংসারের সব ঐশ্বর্যের চাইতে বেশি’ ?
উঃ মমতা

২৪. সুকুমার কোন সূত্রে কুবেরের ভাণ্ডারের তুলনা এনেছে ?
উঃ ক্ষমার

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর

১.দু-চোখ দিয়ে তার আগুন ঝরছে” — কার দু-চোখ দিয়ে কেন আগুন ঝরছে ?

উঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘দাম’ গল্পের উদ্ধৃত অংশে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের দু-চোখ দিয়ে আগুন ঝরার কথা বলা হয়েছে। 

গল্পকথক সুকুমার অঙ্কে বরাবর দুর্বল। এম.এ পাস করার পরও তিনি স্বপ্ন দেখতেন যেন অঙ্ক পরীক্ষা দিচ্ছেন। শেষ ঘণ্টা পড়ব পড়ব করছে, কিন্তু তার একটি অঙ্কও মিলছে না। তার স্কুলজীবনের আতঙ্ক অঙ্কের মাস্টারমশাই তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ছাত্র অঙ্ক মেলাতে পারছে না দেখে মাস্টারমশাইয়ের দু-চোখের দৃষ্টি যেন অগ্নিসম।

২. “স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলােক!” — উদ্দিষ্ট ভদ্রলোক কেন বিভীষিকা ছিলেন ?

উঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের উক্ত অংশে ‘ভদ্রলোক’ বলতে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। অঙ্কে ছিল তাঁর অসামান্য দক্ষতা। মাস্টারমশাই যে-কোনাে অঙ্কই মুহুর্তে সমাধান করে ফেলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, অঙ্ক না জানলে জীবনটাই বৃথা। কোনো ছাত্র অঙ্ক না পারলে মাস্টারমশাই প্রচণ্ড রেগে যেতেন। তাঁর প্রকাণ্ড হাতের চড় ছাত্রদের পিঠে নেমে আসত। অথচ কাঁদার জো ছিল না। এইসব কারণেই তিনি ছাত্রদের কাছে বিভীষিকা ছিলেন।

৩. ‘দাম’ গল্প অবলম্বনে সুকুমার চরিত্রটি ব্যাখ্যা কর।

উঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার। আমরা তাঁর জবানিতেই সমস্ত কাহিনি জানতে পারি। গল্প থেকে জানা যায়, তিনি অঙ্কে বরাবরই দুর্বল ছিলেন। তাঁর কাছে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন এক মূর্তিমান বিভীষিকা। ম্যাট্রিকুলেশন পাশের পর মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেলেও দীর্ঘদিন সেই ভয় তাঁকে তাড়া করে বেড়াত।

সুকুমার চরিত্রে আছে আত্মবিশ্লেষণী সত্তা। তিনি পত্রিকায় যে গল্প লিখেছেন তা যে খুব উৎকৃষ্ট নয়, তাঁর বক্তৃতা যে আবেগসর্বস্ব ফাঁপা ফানুসের মতো অন্তঃসারশূন্য, অত প্রশংসা যে তার প্রাপ্য নয় সবই তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।

শুধু তাই নয়, বহু বছর পর তার স্কুলজীবনের বিভীষিকা- অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্র তাঁকে যথোচিত শ্রদ্ধা জানিয়েছে সুকুমার। অঙ্কে মাস্টারমশাইয়ের পাণ্ডিত্যকেও সুকুমার মর্যাদার সঙ্গে স্বীকার করেছেন। মাস্টারমশাইয়ের প্রতি তাঁর ভয় ছিল, অশ্রদ্ধা নয়।

সুকুমার বুঝেছে যে, এতকাল তিনি শুধু মাস্টারমশাইয়ের শাসনকেই উপলব্ধি করেছিলেন, তাঁর স্নেহ অনুভব করতে পারেননি। বাংলাদেশে মাষ্টারমশাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর সেই উপলব্ধি হয়েছে। সুকুমার বুঝেছে, স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার মহাসমুদ্র তাঁর মাস্টারমশাই।

সুকুমার একটি অনামি পত্রিকায় মাস্টারমশাইকে নিয়ে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার স্মৃতিকথা লিখেছিলেন। পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন নগদ দশ টাকা। দশ টাকায় তিনি মাস্টারমশাইকে, তাঁর স্নেহকে বিক্রি করেছেন, অথচ সেই মানুষটির অমূল্য স্নেহ তার মাথায় অবিরত ঝরে পড়েছে – এই ভেবে সুকুমার আত্মগ্লানিতে যেন ডুবে যায়।

৪. ‘আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।’ – বক্তা কে? তাঁর একথা বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘দাম’ গল্প থেকে গৃহীত উক্ত অংশের বক্তা মাস্টারমশাই।

আলোচ্য গল্পে আমরা দুটি চরিত্র পাই। প্রথমটি হলেন গল্পের কথক সুকুমার এবং দ্বিতীয়টি সুকুমারের স্কুলজীবনের অঙ্কের মাস্টারমশাই। ছাত্রজীবনে সুকুমার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে ভীষণ ভয় পেতেন। এমনকি পরবর্তীকালে স্কুলজীবন পার হয়েও তাঁর মন থেকে মাস্টারমশাইয়ের ভয়ের স্মৃতি অমলিন হয়ে থাকে। লেখক কোনো একটি পত্রিকার ফরমাশে তাঁর ছেলেবেলার গল্প লেখেন। সেই গল্পে তিনি তাঁর মাস্টারমশাইয়ের ভীষণ চরিত্রের কথা তুলে ধরেন। এই গল্প লেখার বিনিময়ে তিনি দশ টাকা রোজগার করেন।

বাংলাদেশে এক বক্তৃতাসভায় সুকুমারের সঙ্গে মাস্টারমশাইয়ের দেখা হয়। সুকুমার দেখেন মাস্টারমশাই সেই লেখাটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সকলকে ঐ লেখাটি আনন্দের সঙ্গে দেখানও। যে লেখাটি বাকিদের কাছে মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা বর্ষণ, সেটাই মাস্টারমশাইয়ের কাছে যেন ছাত্রের শ্রদ্ধা নিবেদন। মাস্টারমশাইয়ের মনে হয় তাঁর ছাত্র ঐ লেখার মাধ্যমে তাঁকে অমর করে দিয়েছে।


অন্যান্য আলোচনা
কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি
ধীবর বৃত্তান্ত
ইলিয়াস
নব নব সৃষ্টি
হিমালয় দর্শন
নোঙর
আকাশে সাতটি তারা
খেয়া
আবহমান
চিঠি
আমরা
নিরুদ্দেশ
রাধারাণী
চন্দ্রনাথ

Leave a Reply