You are currently viewing মহাশ্বেতা দেবী | তোমার প্রিয় সাহিত্যিক

মহাশ্বেতা দেবী | তোমার প্রিয় সাহিত্যিক

আজকের প্রবন্ধ মহাশ্বেতা দেবী বা তোমার প্রিয় সাহিত্যিক। আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ তুলে ধরেছি। আজকের প্রবন্ধটিও বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিশেষ সহায়ক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমস্ত প্রবন্ধের লিংক নীচে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তোমরা পাবে পাঠ্য অনুসারে নানা প্রশ্নোত্তরও। আগ্রহীরা তা দেখে নিতে পারো।

মহাশ্বেতা দেবী প্রবন্ধ রচনা

আজকের প্রবন্ধ কেমন লাগল তা জানিয়ে মন্তব্য কর। আমাদের এই ওয়েবসাইটের নির্মিতি বিভাগ থেকে প্রতিবেদন রচনা, ভাব সম্প্রসারণ, সারাংশ প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য দেখে নাও। এছাড়া নবম শ্রেণি, দশম শ্রেণি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পাঠ্যের প্রশ্ন উত্তর ও মক টেস্ট পাবে। এছাড়া আর কোন বিষয়ে তোমাদের সহায়তা প্রয়োজন তা কমেন্ট করে জানাতে পারো।

মহাশ্বেতা দেবী – ভূমিকা

বাংলা সাহিত্যে যিনি বিষয়ের বহুমাত্রিকতা ও দেশজ আখ্যানের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন তিনি হলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী। তিনি ইতিহাস থেকে, রাজনীতি থেকে যে-সাহিত্য রচনা শুরু করেন, তা শোষিতের আখ্যান নয় বরং স্বদেশীয় প্রতিবাদী চরিত্রের সন্নিবেশ বলা যায়। তিনি আজীবন সংগ্রামী চিন্তা চর্চা করেছেন এবং দেশ ও মানুষ সর্বপ্রকার শোষণমুক্ত হবে সেই লক্ষ্যে সাহিত্য রচনা করে গেছেন।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ সালের ১৪ই জানুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মনীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তাঁর কাকা ঋত্বিক ঘটক ছিলেন বিখ্যাত চিত্র পরিচালক। প্রখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে মহাশ্বেতা দেবীর বিবাহ হয়। মহীয়সী এই লেখিকা ২৮শে জুলাই ২০১৬ তারিখে পরলোক গমন করেন।

শিক্ষা জীবন

মহাশ্বেতা দেবীর শিক্ষা শুরু হয় রাজশাহীতে। পরবর্তীকালে ১৯৩৬ সালে শিক্ষার জন্য তিনি যান শান্তিনিকেতনে। এখানেই তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু। ১৯৩৯ সালে খগেন্দ্রনাথ সেন সম্পাদিত ‘রংমশাল’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত রচনা ‘ছেলেবেলা’। এরপর তিনি কলকাতায় চলে এলেও ১৯৪৪ সালে পুনরায় ফিরে আসেন শান্তিনিকেতনে, বিএ পড়তে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ ভর্তি হন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হয়।

কর্ম জীবন

এম.এ পাশ করার আগে মহাশ্বেতা দেবী শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন। যদিও ১৯৪৯ সালে তিনি আয়কর বিভাগে কেরানির চাকরি পান, কিন্তু সে-চাকরি তাঁর করা হয় না। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারে পোস্টাল অডিটে আপার ডিভিশন ক্লার্কের চাকরি নেন। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সন্দেহে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন, পরবর্তীকালে পুনর্বার চাকরিতে বহাল হলেও তিনি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সরকারি চাকরিতে ফেরেননি। ১৯৬৪ সালে তিনি ইংরেজি অধ্যাপনায় প্রবেশ করেন। ইতিমধ্যে তাঁর ‘ঝাঁসীর রানি’ প্রকাশ পায়। পরবর্তীকালে তিনি লেখাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

সাহিত্য পরিচয়

মহাশ্বেতা দেবী একজন সাংবাদিক এবং লেখিকা হিসাবে কাজ করেন। পরবর্তী কালে তিনি বিখ্যাত হন মূলত পশ্চিমবাংলার আদিবাসী এবং নারীদের ওপর তাঁর কাজের জন্য। তিনি বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে বিভিন্ন আদিবাসী ও মেয়েদের উপর শোষণ এবং বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। ইতিহাস তাঁর সাহিত্যজীবনে সব সময়ই গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। তাঁর প্রথমদিকের সাহিত্যকর্মে এই প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর ঐতিহাসিক পটভূমিকায় লেখা ‘নটী’ উপন্যাস, লোকায়ত নৃত্য-সংগীত শিল্পীদের নিয়ে লেখা ‘মধুরে মধুর’, সার্কাসের শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় জীবন নিয়ে ‘প্রেমতারা’, এছাড়া ‘যমুনা কী তীর’, ‘তিমির লগন’, ‘রূপরাখা’, ‘বায়োস্কোপের বাক্স’ প্রভৃতি উপন্যাস। লেখিকার অন্যান্য বিখ্যাত রচনার মধ্যে আছে ‘আঁধার মানিক’, ‘কবি বন্দ্যঘটী গাঞইর জীবন ও মৃত্যু’, ‘হাজার চুরাশির মা’ ইত্যাদি। এছাড়া তিনি আদিবাসীদের নিয়ে প্রচুর ছোটোগল্পও লিখেছেন যেমন ‘শালগিরার ডাকে’, ‘ইটের পরে ইট’, ‘হরিরাম মাহাতো’, ‘সিধু কানুর ডাকে’ প্রভৃতি।

পুরস্কার ও সম্মান

মহাশ্বেতা দেবী বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালে ‘অরণ্যের অধিকার’ উপন্যাসটির জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান। ১৯৯৭ সালে ‘ম্যাগসাইসাই’ পুরস্কার পান আদিবাসীদের মাঝে কাজ করার জন্য। এছাড়া ‘জগত্তারিণী পুরস্কার’, ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ লাভ করেন। ভারত সরকার পদ্মশ্রী সম্মান দান করে। বিগত কয়েক বছর ধরে নোবেল পুরস্কারের জন্য সাহিত্যিকদের তালিকায় উঠে এসেছে মহাশ্বেতা দেবীর নাম।

অনুরূপ প্রবন্ধ – তোমার প্রিয় সাহিত্যিক


অন্যান্য প্রবন্ধ

বাংলার উৎসব
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
শিক্ষাবিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
বইমেলা
সাহিত্য ও সমাজ

আমাদের মোবাইল অ্যাপ – আমরা সকলের জন্য নিয়ে এসেছি বাংলা ব্যাকরণ অভিধান অ্যাপ যা বাংলা ব্যাকরণের বৃহত্তম একটি ডিজিটাল অ্যাপ। অ্যাপটি সম্পর্কে একঝলক দেখে নিতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর।

বাংলা ব্যাকরণ

Leave a Reply