You are currently viewing ভাঙার গান (কবিতা) – নবম শ্রেণি বাংলা

ভাঙার গান (কবিতা) – নবম শ্রেণি বাংলা

নবম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে একটি বিশেষ পাঠ্য কবি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ভাঙার গান কবিতাটি। আমরা আজ কবিতাটির মূলকথা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর জেনে নেব। তার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্যেও নজর দেব। আশা করি আলোচনাটি তোমাদের সহায়ক হবে। তোমাদের অন্যান্য আলোচনাগুলি পেতে একেবারে নীচে দেওয়া তালিকা দেখ।

ভাঙার গান – প্রাসঙ্গিক তথ্য

উৎসঃ ‘ভাঙার গান’

মূলকথাঃ ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কালবৈশাখীর মত উত্তাল দেশের পরিস্থিতিতে বসে বসে সময় নষ্ট না করে তালা ভেঙে, লাথি মেরে ভীম কারার ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে বলেছেন কবি। সমস্ত বন্দিশালায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কবিতাটিতে কবির দেশাত্মভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।

এককথায় প্রশ্নোত্তর

১. কবিতার শুরুতে কবি কী ভেঙে ফেলার কথা বলেছেন ?
উঃ লৌহ কপাট

২. ‘শিকল-পুজো’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উঃ বন্ধন, পরাধীনতা ও দাসত্ব

৩. আলোচ্য কবিতায় কবি কার উদ্দেশ্যে সম্বোধন জানিয়েছেন ?
উঃ তরুণ ঈশান  ও পাগলা ভোলা

৪. ‘ঈশান’ বলতে কী বোঝায় ?
উঃ দশদিকের একটি

৫. আলোচ্য কবিতায় ব্যবহৃত শিবের বাদ্যযন্ত্রটি হল –
উঃ বিষাণ

৬. কবিতায় কবি কীসের বাজনা বাজাতে বলেছেন ?
উঃ গাজনের

৭. বন্ধনের প্রতীক রূপে কবি যা প্রলয় দোলায় দুলিয়ে দিতে বলেছেন –
উঃ গারদ

৮. কবিতায় কবি বিধ্বংসী হুঙ্কার অর্থে কোন শব্দগুচ্ছের প্রয়োগ করেছেন ?
উঃ হৈদরি হাঁক

৯. ‘মৃত্যুকে ডাক ——- পানে।’ – শূন্যস্থান পূরণ কর।
উঃ জীবন

১০. কবির ভাষায় কে নাচে ?
উঃ কালবৈশাখী

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর

১. ‘গাজনের বাজনা বাজা’ – কবির এই আহ্বানের কারণ কী ?

উঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘ভাঙার গান’ কবিতায় এই আহ্বান জানিয়েছেন। গাজন হল প্রলয়ের দেবতা শিবকে কেন্দ্র করে চৈত্র সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত পুজো। কবি চেয়েছেন গাজনের বাজনার মধ্য দিয়েই বিপ্লবী যুবশক্তি ইংরেজ শৃঙ্খলের প্রাচীরকে ভেঙে দিক। তারা প্রতিষ্ঠা করুক মুক্ত স্বাধীন সত্যের। গাজনের বাজনার মধ্যে প্রলয়ের যে ইঙ্গিত আছে তার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ করতে কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন।

২. ‘মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে’ – তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উঃ পরাধীন দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা বিপ্লব করছিলেন তাঁরা ছিলেন বীর, নির্ভীক। তাঁরা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দেশমাতার বন্ধন মুক্তিতে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। জীবন যেন তাঁদের কাছে পায়ের ভৃত্য। তাঁরা জানতেন মৃত্যুর মধ্য দিয়েই জীবনের জয়গান গাইবেন। দেশের মানুষের স্বাধীন জীবনের জন্য তাঁদের আত্মদান হবে এক মহান আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা। এই মৃত্যু সাধারণ মৃত্যু নয়, স্বাধীন জীবনের গৌরব গাথা। এই মৃত্যু হল জীবনের জন্য।

৩. ‘রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী’ – ব্যাখ্যা কর।

উঃ পরাধীন দেশের মুক্তির জন্য ভারতমাতার অনেক বীর সন্তান নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তবু বিপ্লব অব্যাহত ছিল। ইংরেজ শাসক একে একে বহু বিপ্লবীকে কারারুদ্ধ করে দমন করতে চেয়েছিলেন সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামকে। তাদের অকথ্য অত্যাচারে বিপ্লবীদের অনেক রক্ত ঝরেছে। কারাগারের দেওয়ালে, শৃঙ্খলে লেগেছে রক্ত। বিপ্লবীদের রক্তমাখা সেই কারাগারই কবির কাছে যেন দেশমাতার পূজার পাষাণ বেদী। সেই বেদীই শহিদের রক্ত জমাট হয়ে আছে।

৪. ‘ভাঙার গান’ কবিতা অবলম্বনে কবির বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় দাও।

উঃ বাংলা সাহিত্যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী কবি’ নামেই পরিচিত। তাঁর ‘ভাঙার গান’ কবিতাতেও আছে কবির সেই বিদ্রোহী মনোভাব। দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতি ব্রিটিশ রাজশক্তির ক্রমাগত নিপীড়ন দেখে কবি বিদ্রোহ করেছেন। যখন দেশমাতার শৃঙ্খল মোচনে ব্রতী বীর সন্তানরা লৌহ কারায় বন্দী তখন কবি সেই লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে তরুণ বিপ্লবীকে আহ্বান জানিয়েছেন। রুদ্রদেবের মতো ধ্বংসের শিঙা বাজিয়ে অত্যাচারী শাসকের নির্মম শাসনের ভীতি দূর করবেন তরুণ বিপ্লবীরা। কবি তাদের ডাক দিয়েছেন সজোরে হ্যাঁচকা টানে গারদগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার। কাঁধে দুন্দুভি ঢাক নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের হৈদরি হাঁক ছাড়তে বলেছেন কবি।

কালবৈশাখী ঝড়ের মতো প্রবল শক্তিতে ভীম-কারার ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে সক্ষম তরুণ বিপ্লবীরা। বন্দিশালার দরজাকে তারা লাথি মেরে ভেঙে ফেলবেন। বলিষ্ঠ সংগ্রাম ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে তাঁরা মৃত্যুকে জীবন পানে ডাক দেবেন। তাদের বন্দি করে, ফাঁসি দিয়ে ইংরেজ শাসক মুক্ত স্বাধীন সত্যকে স্তব্ধ করতে পারবে না। তাদের লড়াইয়ের জয় হবেই। আসলে কবির বিদ্রোহী সত্তা তাঁর গভীর দেশপ্রেমের উপর প্রতিষ্ঠিত। পাঠ্য কবিতায় কবির সেই বিদ্রোহের সুরই বারংবার ধ্বনিত হয়েছে।

৫. ‘ভাঙার গান’ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার কর।

উঃ সাহিত্যে নামকরণের বিভিন্ন দিক থাকে। কখনও কোনো চরিত্রকে কেন্দ্র করে নামকরণ করা হয়, কখনও ব্যঞ্জিত অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে। আলোচ্য কবিতাটির নামকরণেও আছে কবির মনোভঙ্গির প্রকাশ। ‘ভাঙার গান’ আসলে একটি গান। অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এ গানের মাধ্যমে কারারুদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা স্বদেশের মুক্তির সংকল্প প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার প্রথম চরণেই কবি বলেছেন ‘কারার ওই লৌহ-কপাট /ভেঙে ফেল, কররে লোপাট’। আবার অন্য একটি চরণে লিখেছেন — ‘লাথি মার, ভাঙরে তালা!’।

এই দুই চরণে ভাঙার কথা সরাসরি ব্যক্ত। বস্তুত, গানটির সর্বত্র ভাঙা বা ধ্বংসের প্রাধান্যই রয়েছে। কবি কারার লৌহ-কপাট ভেঙে লোপাট করতে ডাক দিয়েছেন। কারার প্রাচীর ভেদ করে ধ্বংস-নিশান ওড়াতে বলেছেন। তিনি চান প্রলয় বিষাণ বাজিয়ে রুদ্রদেব ভোলানাথের মতো তরুণ বিপ্লবীরা শাসকের সমস্ত চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দিক। প্রলয়-দোলায় গারদগুলোকে হেঁচকা টানে দুলিয়ে দিক। তারা মৃত্যুকে ডেকে আনুক জীবন পানে। আসলে কবির দৃষ্টিতে গোটা দেশটাই এক বন্দিশালা। বিদ্রোহের অনলে এই বন্দিশালাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে এক সত্য, সুন্দর, স্বাধীন দেশ গঠনের জন্যই কবি এই ভাঙার গান গেয়েছেন। তাই বলা যায়, সমগ্র গানটিতে ভাঙার কথাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং ‘ভাঙার গান’ নামকরণটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


অন্যান্য আলোচনা

কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি
ধীবর বৃত্তান্ত
ইলিয়াস
নব নব সৃষ্টি
হিমালয় দর্শন
নোঙর
আকাশে সাতটি তারা
আবহমান
খেয়া
দাম
চিঠি
আমরা
নিরুদ্দেশ
রাধারাণী
চন্দ্রনাথ

Leave a Reply