You are currently viewing বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

আজকের প্রবন্ধ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বা বন্যপ্রাণী ও মানব জীবন। আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ তুলে ধরেছি। আজকের প্রবন্ধটিও মাধ্যমিক পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিশেষ সহায়ক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমস্ত প্রবন্ধের লিংক নীচে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে আছে প্রশ্নোত্তরের লিংকও। আগ্রহী ছাত্রছাত্রী তা দেখে নিতে পারো।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা প্রবন্ধ সম্পর্কে মন্তব্য কর। আমাদের এই ওয়েবসাইটের নির্মিতি বিভাগ থেকে প্রতিবেদন রচনা, ভাব সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য দেখে নাও। এছাড়া নবম শ্রেণি, দশম শ্রেণি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পাঠ্যের প্রশ্ন উত্তর ও মক টেস্ট পাবে। এছাড়া আর কোন বিষয়ে তোমাদের সহায়তা প্রয়োজন তা কমেন্ট করে জানাতে পারো।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা – ভূমিকা

অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণি এই পরিবেশের অন্যতম সম্পদ। পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও বাসস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। সেই ভারসাম্য রক্ষায় অরণ্য ও পশু-পাখি, জীব-জন্তু সম্পর্কযুক্ত। অরণ্য ও সেই অরণ্যের প্রাণিদের রক্ষা করাও মানুষের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বর্তমান দিনে বনের বাঘ, হরিণ, হাতি, গণ্ডার প্রভৃতি প্রাণিকে রক্ষা করা এবং সেই সঙ্গে অরণ্যভূমিকে বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণ করার ফলে সংরক্ষণের গুরুত্ব প্রাধান্য পেয়েছে।

সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

ভারত বিভিন্ন প্রকার বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। আমাদের দেশে বন্যপ্রাণী সম্পদের মধ্যে আছে ময়ূর, হাতি, একশৃঙ্গ গণ্ডার, বাঘ, সিংহ, বুনো শুয়োর, কুমির, ঘড়িয়াল, ভাল্লুক ও নানা রঙের পাখি। আছে নানা প্রজাতির বানর। এসবই বন্য সম্পদের প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বৈচিত্র্যময় এই বন্য সম্পদ লুপ্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। তাতে মানুষের ক্ষতি সাধিত হবে। তাই এই সকল বন্য সম্পদ যাতে লুপ্ত না হয়ে যায় সে জন্যই অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণি সংরক্ষণের প্রয়োজন।

সমস্যা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিল্পের বিস্তারে অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণি ধ্বংস করা হয়। আমাদের দেশে অরণ্যপ্রাণি লুপ্ত হওয়ার আরও অন্যান্য কারণ রয়েছে।

প্রথমত, আমাদের দেশে বাড়তে থাকা জনসংখ্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে অরণ্য সম্পদ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বসতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে কাটা হচ্ছে বনভূমি। অরণ্যপ্রাণি হারাচ্ছে তাদের বাসস্থান। ফলে অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণি সঙ্কটে পড়ছে।

দ্বিতীয়ত, রাস্তাঘাট নির্মাণই হোক বা কলকারখানা স্থাপন, অরণ্য নিধন হচ্ছে নির্বিচারে। তুলনায় বৃক্ষরোপণ কম হয়। ফলে সঙ্কটে পড়ছে অরণ্যপ্রাণি।

তৃতীয়ত, কিছু সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নেও সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। যেমন, তুঙ্গভদ্রার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতে ব্যাপকভাবে কৃষ্ণসার হরিণ নিহত হয়।

এছাড়া কখনও সখের খেয়ালে বন্যপ্রাণি হত্যা, মাংস কিংবা চামড়ার লোভে হত্যা করা হয় নানা শ্রেণির বন্যপ্রাণি।

হিসেব অনুযায়ী নানা কারণে সবুজ নিধনের ফলে অরণ্যের পরিধি কমেছে অনেকাংশে। আমাদের রাজ্যে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও সুন্দরবন এলাকা ছাড়া স্বাভাবিক অরণ্য প্রায় নেই বললেই চলে। সবুজের অভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত যেমন হচ্ছে তেমনি বন্যপ্রাণির অস্তিত্ব সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

সংরক্ষণে করণীয় 

আমাদের বাসযোগ্য এই পরিবেশ রক্ষা করতে ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুরক্ষিত করতে অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ করা আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। মানুষের প্রয়োজনেই সৃষ্টি করতে হবে সবুজকে, রক্ষা করতে হবে প্রাণিসম্পদকে। সেজন্য অরণ্য ও বন্যপ্রাণি ধ্বংস হওয়ার নির্দিষ্ট কারণগুলিকে চিহ্নিত করে তা দূর করতে হবে। এ জন্য প্রথমেই আমাদের জনবিস্ফোরণ রোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে বাহ্যিক অনুপ্রবেশ আটকাতে হবে। বন্যপ্রাণিদের উপর অনাবশ্যক অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। অরণ্য ও প্রাণিদের স্বাভাবিক বিকাশ ও বিবর্তনের ধারা যাতে রক্ষিত হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে বন ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে ১৯৭২ সালে একটি আইন পাস করা হয়েছে। সেই আইন অনুসারে বন্যপ্রাণি হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

উপসংহার

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষিত না হলে যে বিপদ ঘনিয়ে আসবে তাতে মানুষেরও অস্তিত্ব সঙ্কট তৈরি হবে। তাই মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আবশ্যিক। এর জন্য কেবল সরকারি স্তরেই নয়, প্রতিটি মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। একদিকে ধারাবাহিক ভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে অন্যদিকে প্রাণি হত্যা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সবুজ অরণ্যকে কোনোভাবে ধ্বংস করা যাবে না। মানুষকে ভাবতে হবে নিজের স্বার্থেই। নাহলে একদিন মানুষ নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন করে ফেলবে।


অনুরূপ প্রবন্ধ

বন্যপ্রাণী ও মানব জীবন, অরণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

অন্যান্য প্রবন্ধ

বাংলার উৎসব
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
শিক্ষাবিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

Leave a Reply