You are currently viewing খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

আজকের প্রবন্ধ খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা বা চরিত্র গঠনে খেলাধুলার অবদান। আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ তুলে ধরেছি। আজকের প্রবন্ধটিও মাধ্যমিক পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিশেষ সহায়ক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমস্ত প্রবন্ধের লিংক নীচে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে আছে প্রশ্নোত্তরের লিংকও। আগ্রহী ছাত্রছাত্রী তা দেখে নিতে পারো।

খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা – ভূমিকা

‘সুস্থ দেহেই সুস্থ মনের বাস’ অর্থাৎ দেহ বা শরীর সুস্থ থাকলে মনও থাকে সুস্থ। আর সুস্থ সবল দেহের একমাত্র উৎস হল খেলাধুলা। আমাদের সভ্যতার যত উন্নতি হয়েছে কালে কালে, দেশে দেশে খেলাধুলার নানা রূপান্তর ঘটেছে। কিন্তু যেকোনো প্রকার খেলাধুলাই আমাদের অটুট স্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলে। মানুষের চরিত্র গঠনেও প্রভাব আছে খেলাধুলার।

খেলাধুলার শ্রেণি

খেলাধুলাকে মূলত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় – (১) ইনডোর গেমস, যেমন – টেবল টেনিস, দাবা ইত্যাদি ও (২) আউট ডোর গেমস, যেমন – ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি। এই দুই ধরনের খেলাই আমাদের দেহ ও মনের উৎকর্ষ সাধন করে থাকে।

ছাত্রজীবন ও খেলাধুলা

এক আদর্শ ছাত্রের প্রধান কর্তব্য যেমন সঠিক উপায়ে পড়াশোনা করা তেমনি খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করা। এর ফলে শরীরের গঠন ও প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবল হয়। শরীরচর্চার সঙ্গে মনে জাগে আনন্দ। কথায় আছে, ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’। সুস্থ দেহ মানেই সুখ সৌন্দর্য্যের অধিকারী। তাই স্বাস্থ্য বিকশিত না হলে কোনো কিছুই সুন্দর হয়ে উঠতে পারে না। তাই স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ছাত্রজীবন থেকেই খেলাধুলার একান্ত প্রয়োজন।

চরিত্র গঠনে খেলাধুলা

ব্যক্তির চরিত্র গঠনেও রয়েছে খেলাধুলার ভূমিকা। খেলাধুলা মানুষের চরিত্রকে দৃঢ় করে। আসলে খেলাধুলার জন্য যে ধৈর্য ও সংযম প্রয়োজন হয় তাই-ই প্রভাব ফেলে আমাদের চরিত্র গঠনে। যারা খেলাধুলার মধ্যে থাকে তারা ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্রে আদর্শ হয়ে ওঠে। তাছাড়া, খেলাধুলার মাধ্যমে ব্যক্তি চরিত্রে সহমর্মিতা ও সহানুভূতি বোধের জন্ম দেয় । চরিত্রে আসে আত্মবিশ্বাস, প্রত্যয়, অধ্যবসায়। ফলে দেহের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক গুণাবলীরও বিকাশ হয়।

খেলাধুলার সার্বিক গুরুত্ব

১. ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই স্কুল, কলেজে যুক্ত হয়েছে শারীরশিক্ষা। খেলাধুলা শিক্ষার্থীকে বিনয়ী হতে, শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে শেখায়।

২. খেলাধুলার মাধ্যমে একটি শিশু পায় আনন্দময় পরিবেশ। সে বড়ো হয় উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত, আনন্দের মাধ্যমে। ফলে শিশুর মানসিক বিকাশ সহজ ও সাবলীল হয়।

৩. খেলাধুলা মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে। ফলে পরস্পরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস, সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও নির্ভরযোগ্যতার সম্পর্ক তৈরি হয়। 

৪. মানুষের মনে জাতীয়তাবোধ তৈরি করতে খেলাধুলার ভূমিকা যথেষ্ট। এটি এমন একটি আবেগ যেখানে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নারী, পুরুষ কোনো বিভেদ থাকে না।

৫. শুধু জাতীয়তাবোধ নয়, বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের অন্যতম একটি মাধ্যম খেলাধুলা।

উপসংহার

মানুষের দেহ ও মনকে সম্পূর্ণভাবে উজ্জীবিত করতে খেলাধুলার ভূমিকা অন্যতম। এর মাধ্যমে যেমন নির্মল আনন্দ আসে তেমনি জীবন হয়ে ওঠে উপভোগ্য। শুধু তাই নয়, খেলাধুলা ও শরীরচর্চা একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। শরীরে, মনে প্রশান্তি আনে। দৈহিক ও মানসিক তথা জাতি ও দেশের উন্নতিতে খেলাধুলার অবদান অনস্বীকার্য।

অনুরূপ প্রবন্ধ

চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা
ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব


অন্যান্য প্রবন্ধ

বাংলার উৎসব
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
শিক্ষাবিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা

Leave a Reply