সাহিত্য সঞ্চয়ন (IX)

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

নবম শ্রেণির পাঠ্য কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম (বা মুকুন্দ) চক্রবর্তীর লেখা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা। আমরা এই পোস্টে কবিতাটি থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও তার উত্তর জেনে নেব। আমরা এখানে মূলত সংক্ষিপ্ত ধরনের প্রশ্নোত্তর দেখব। MCQ উত্তরের জন্য আমাদের মক টেস্ট দাও। চলো, আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করি। তবে কবিতাটি সম্পর্কে জানার আগে আমাদের কবি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী – কবি পরিচয়

সমগ্র মধ্যযুগের সাহিত্যে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কৃতিত্ব অবিস্মরণীয়। তাঁর কাব্যের নাম ‘অভয়ামঙ্গল’ বা ‘অম্বিকামঙ্গল’। কাব্যটি ‘আখেটিক’ ও ‘বণিক’ এই দুটি খণ্ডে বিভক্ত।

কবির পিতামহের নাম জগন্নাথ মিশ্র, পিতা হৃদয় মিশ্র। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল অবিভক্ত বর্ধমানের দামিন্যা গ্রামে। কিন্তু ডিহিদার মামুদ শরিফের অত্যাচারে তাঁকে সাত পুরুষের বাসস্থান পরিত্যাগ করে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার আড়রা গ্রামের ব্রাহ্মণ জমিদার বাঁকুড়া রায়ের আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে বাঁকুড়া রায়ের পুত্র রঘুনাথের গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্তও হন। পরে বাঁকুড়া রায়ের দেহান্তে রাজ্যভার গ্রহণ করেন রঘুনাথ। এই রঘুনাথের সভাসদ রূপে অবস্থান কালে এবং তাঁর নির্দেশেই কবি তাঁর ‘অভয়ামঙ্গল’ রচনা করেন। কাব্যটি ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৪৪ খ্রিস্টাব্দ) রচিত বলে মনে করা হয়।

আগ্রহী ছাত্রছাত্রী কবি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের ইউটিউব ভিডিও দেখে নিতে পারো। ভিডিও দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর।

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – শব্দার্থ

  • কৈল = করিল             
  • ঈশান = শিব / উত্তর-পূর্ব কোণ      
  • চিকুর = কেশ / বিদ্যুৎ
  • নিমিষেকে = পলকে         
  • চারি মেঘে = চার প্রকার মেঘ, যাদের নাম ‘সম্বর্ত’, ‘আবর্ত’, ‘পুষ্কর’ ও ‘দ্রোণ’। পুরাণমতে এদের জন্ম ব্রহ্মার ঔরসে।
  • রড় = দৌড়
  • হরিত = সবুজ
  • অষ্ট গজরাজ = ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, পুষ্পদন্ত, সর্বভৌম, অঞ্জন ও সুপ্রতীক। এদের মধ্যে ঐরাবত দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন হিসেবে পরিচিত।
  • বেঙ্গ-তড়কা বাজ = ব্যাঙের মতো লাফিয়ে পড়া
  • পরিচ্ছিন্ন = পৃথক
  • সোঙরে = স্মরণ করে
  • জৈমিনি = মহাভারত প্রণেতা বেদব্যাসের শিষ্য। ইনিই পূর্ব মীমাংসা দর্শনের প্রণেতা। তাছাড়া বজ্রনিবারক হিসেবে খ্যাত।
  • পূর্বমীমাংসা – বেদান্তের অংশ। এটি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য বেদ ব্যাখ্যায় সাহায্য করা।
  • বুলে = ভাসে
  • আছুক = পড়ে থাক
  • হেজ্যা = নষ্ট (হেজিয়া > হেজ্যা > হেজে)
  • বীর হনুমান = বায়ু ও বানরী অঞ্জনার পুত্র। রামভক্ত হিসেবে সুবিদিত।
  • অম্বিকা = দেবী দুর্গার অপর নাম। ধৃতরাষ্ট্রের মাতা।
  • কবিকংকণ = মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি।

প্রশ্নোত্তর পর্ব – এককথায় উত্তর

১. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটির উৎস নির্দেশ কর।
উঃ চণ্ডীমঙ্গল কাব্য, আখেটিক খণ্ড

২. ‘দেখিতে না পায় কেহ’ – কী দেখতে না পাবার কথা বলা হয়েছে ?
উঃ অঙ্গ আপনার  

৩. সঘন চিকুর সহ মেঘ কোন কোণে দেখা দিয়েছে ?
উঃ ঈশান  

৪. ঈশান কোণ বলতে কোন কোণকে বোঝানো হয় ?
উঃ উত্তর-পূর্ব কোণ

৫. ‘——- পবনে মেঘ ডাকে দূর দূর’ – শূন্যস্থানে সঠিক শব্দটি বসাও।
উঃ উত্তর

৬. ‘নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল’ – ‘নিমিষেকে’ শব্দটির অর্থ কী ?
উঃ মুহূর্তে

৭. মেঘ কোথায় উড়ে গিয়ে উচ্চনাদে ডাক দেয় ?
উঃ কলিঙ্গে

৮. ‘——- গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ’ – শূন্যস্থান পূরণ কর।
উঃ প্রলয়

৯. ‘ঘন ঝড়’ বওয়ার প্রসঙ্গে কবি কোন শব্দগুচ্ছের ব্যবহার করেছেন ?
উঃ হুড় হুড় দুড় দুড়

১০. ‘বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়’ – ‘রড়’ শব্দটির অর্থ কী ?
উঃ দৌড়

১১. প্রজারা ‘চমকিত’ হয় কারণ –
উঃ শস্যের উলটে পড়া

১২. ‘জলে —— একাকার পথ হইল হারা’ – শূন্যস্থান পূরণ কর।
উঃ মহী

১৩. ঘন ঘন কীসের আওয়াজ শোনা যায় ?
উঃ মেঘের গর্জনের

১৪. নিরবধি বৃষ্টি পড়া প্রসঙ্গে কবি কোন তিনটি শব্দের প্রয়োগ করেছেন ?
উঃ সন্ধ্যা, দিবস ও রজনী

১৫. ‘কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক’ – ‘সোঙরে’ শব্দের অর্থ কী ?
উঃ স্মরণ করে

১৬. কলিঙ্গের লোকেরা কাকে স্মরণ করে ?
উঃ জৈমিনিকে

১৭. ‘না পায় দেখিতে কেহ’ – সকলে কী দেখতে পাচ্ছেন না ?
উঃ রবির কিরণ

১৮. জলে কী ভেসে বেড়াবার কথা বলা হয়েছে ?
উঃ ভুজঙ্গ বা সাপ

১৯. কলিঙ্গদেশে নিরবধি কতদিন বৃষ্টি হয়েছে ?
উঃ সাতদিন

২০. ‘আছুক শস্যের কার্য’ – এখানে ‘আছুক’ শব্দটির অর্থ কী ?
উঃ পড়ে থাক

২১. কবিতায় কোন মাসের উল্লেখ রয়েছে ?
উঃ ভাদ্র

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর

        Leave a Reply

        Your email address will not be published. Required fields are marked *

        error: Content is protected !!