আজকের প্রবন্ধ সাহিত্য ও সমাজ। আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ তুলে ধরেছি। আজকের প্রবন্ধটিও বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিশেষ সহায়ক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমস্ত প্রবন্ধের লিংক নীচে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পাবে তোমাদের পাঠ্য সকল বিষয়ের প্রশ্নোত্তরও। আগ্রহী ছাত্রছাত্রী তা দেখে নিতে পারো।
সাহিত্য ও সমাজ প্রবন্ধ
আজকের প্রবন্ধ সাহিত্য ও সমাজ কেমন লাগল তা জানিয়ে মন্তব্য কর। আমাদের এই ওয়েবসাইটের নির্মিতি বিভাগ থেকে প্রতিবেদন রচনা, ভাব সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য দেখে নাও। এছাড়া নবম শ্রেণি, দশম শ্রেণি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পাঠ্যের প্রশ্ন উত্তর ও মক টেস্ট পাবে। এছাড়া আর কোন বিষয়ে তোমাদের সহায়তা প্রয়োজন তা কমেন্ট করে জানাতে পারো।
ভূমিকা
সমাজের সঙ্গে ব্যক্তি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত। উভয়ে একে অপরের পরিপূরক। বহু ব্যক্তির সমন্বয়ে যেমন সমাজ গঠিত হয়, তেমনি ব্যক্তির হিতের জন্য সমাজের প্রয়োজন আছে। ব্যক্তি বাদ দিয়ে যেমন সমাজের কল্পনা করা যায় না তেমনি সমাজ বাদ দিয়ে ব্যক্তির অস্তিত্ব অকল্পনীয়। তাই সাহিত্য কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, সমাজকেন্দ্রিকও।
সাহিত্য ও সমাজের সম্পর্ক
সাহিত্য যদিও সহৃহয় স্রষ্টার আনন্দময় রসোপলব্ধির প্রকাশ, তাহলেও তা ব্যক্তি ও সমাজনিরপেক্ষ নয়। বলা হয় সাহিত্য সমাজের দর্পণ। যেকোনো সাহিত্যেই কবির ব্যক্তিগত ভাবনা হয়ে ওঠে সমকালীন সমাজের চালচিত্র। সাহিত্যের মাধ্যমে একলা কবির কথা সকল রসিক মানুষের কথা হয়ে ওঠে। তা তুলে ধরে সমাজের নানা দিক। সে কারণেই সব যুগের সাহিত্যেই দেখা যায় সে যুগের সমাজের নানা চিত্র।
বাংলা সাহিত্য ও সমাজ
প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের ‘পঞ্চতন্ত্র’, ‘হিতোপদেশ’ প্রভৃতি গ্রন্থে নীতিবাক্য পরিবেশনেও আছে তৎকালীন সমাজের রূপ, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের চমৎকার প্রকাশ। বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের নিদর্শন চর্যাপদ। এখানেও বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের গূঢ় সাধনতত্ত্ব থাকলেও ধরা পড়েছে সে সময়ের বাংলার নানা চিত্র। সমকালীন বঙ্গভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের জীবন ও জীবিকা, পোশাক-পরিচ্ছদ, দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় শিল্পগুণান্বিত হয়ে বর্ণিত হয়েছে।
এরপর মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যেও আছে সমাজের কথা। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য থেকে মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য কিংবা চৈতন্যজীবনী সাহিত্যে সমাজের নানা চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। চণ্ডীমঙ্গলের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী ছিলেন জীবনরস-রসিক কবি। সমাজের বাস্তব চিত্র তাঁর কাব্যে নিপুণভাবে ধরা পড়েছে। ‘অন্নদামঙ্গলে’র কবি ভারতচন্দ্রের কাব্যেও আছে তৎকালীন ক্ষয়িষ্ণু সমাজের চিত্র।
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্বে বাঙালি পরিবার ও সমাজের ছবি তুলে ধরেছেন বিভিন্ন কবি সাহিত্যিক। দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ কিংবা কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস তো বাঙালি সমাজের জীবনবেদ। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন জগৎ, জীবন ও সমাজের মহান স্রষ্টা। তাঁর সার্বিক সৃষ্টির প্রতি ছত্রে জীবন্ত হয়ে আছে সমাজের অনুপুঙ্খ রূপচিত্র। এ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্য মগ্ন থেকেছে রাজরাজড়া ও অভিজাত সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র অঙ্কনে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সমাজের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। পরবর্তীতে সমাজের অনাদৃত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরেছেন মহাশ্বেতা দেবী।
সমাজের ওপর সাহিত্যের প্রভাব
সমাজের ওপর সাহিত্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সাহিত্যের লেখনী একটি ব্যক্তিকে কিংবা একটা গোটা সমাজকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। পরাধীন দেশে বীর বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করেছিল কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’। ‘আনন্দমঠে’র বন্দেমাতরম তো আপামর মানুষের বীজমন্ত্র হয়ে উঠেছিল। আবার নীল চাষীদের উপর অত্যাচার বন্ধে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’। পণ প্রথার কুফল আমরা দেখেছি রবীন্দ্রনাথের ‘দেনাপাওনা’য়। ফলে, সাহিত্য কেবল আনন্দ দান করে না, সমাজের ক্ষত নিরাময়েও বৃহৎ অবদান রাখে।
উপসংহার
একজন সাহিত্যিক যেহেতু সামাজিক মানুষ, স্বাভাবিক তাঁর সৃষ্ট সাহিত্যে সমাজের প্রতিফলন ঘটে। সাহিত্যে সমকালীন সমাজের অবক্ষয়, বিকৃতি, নগ্নতা, শোষণের চিত্র অঙ্কিত হতে পারে, কিন্তু স্রষ্টা তা দেখেন সব কিছুর ঊর্ধ্বে সত্য ও সুন্দরের দৃষ্টিতে। কবির সৃষ্টি পাঠকের হৃদয় ও সমাজমানসকে এক রসময় জগতে নিয়ে চলে। তা মনুষ্যত্বকে খর্ব করে না, মানব ধর্মকে অমলিন করে না। ব্যক্তি অনুভূতির সঙ্গে সমষ্টির সার্বিক কল্যাণেই জীবনের চরম সার্থকতা আসে। সাহিত্য তাই সহৃদয় হৃদয় সংবাদী হয়েও সমাজের প্রতিচ্ছবি পাঠকের সামনে মেলে ধরে।
অনুরূপ প্রবন্ধ – সাহিত্য ও সমাজের সম্পর্ক, সাহিত্য ও সমাজ
অন্যান্য প্রবন্ধ
| বাংলার উৎসব |
| পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার |
| বিজ্ঞান ও কুসংস্কার |
| শিক্ষাবিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা |
| খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা |
| বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা |
| বইমেলা |
আমাদের মোবাইল অ্যাপ – আমরা সকলের জন্য নিয়ে এসেছি বাংলা ব্যাকরণ অভিধান অ্যাপ যা বাংলা ব্যাকরণের বৃহত্তম একটি ডিজিটাল অ্যাপ। অ্যাপটি সম্পর্কে একঝলক দেখে নিতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর।


