You are currently viewing পশ্চিমবঙ্গ দিবস | প্রবন্ধ রচনা

পশ্চিমবঙ্গ দিবস | প্রবন্ধ রচনা

পশ্চিমবঙ্গ দিবস | ২০শে জুন | প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব | এই প্রবন্ধ রচনায় ২০শে জুন দিনটি সম্পর্কে অজানা নানা তথ্য জানতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস ইতিহাস সম্পর্কে এবং তার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে লিঙ্কে ক্লিক কর।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস – প্রেক্ষাপট

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে ’৪৬ সালে মুসলিম লীগ প্রধান মহঃ আলী জিন্না দাবি করেন মুসলিমদের জন্য পৃথক একটি রাষ্ট্রের, যার নাম পাকিস্তান। কিন্তু এর আগে ঘটে গেছে মর্মান্তিক এক ঘটনা – ‘The Great Calcutta Killing’

১৯৪৬, ১৬ই আগস্ট এই দিনে ডাক দেওয়া হয় ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-এর। মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় নেমে আসা এক ঘন অন্ধকার। মুসলিম লীগের গুন্ডাবাহিনী আক্রমণ চালাল অ-মুসলিম মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। শুরু হল অকথ্য অত্যাচার, হত্যা, নারী ধর্ষণ। টানা তিনদিন চলল এমন।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস | প্রবন্ধ রচনা

এরপর ?

নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে এরপর অ-মুসলিম, বলা ভালো হিন্দু সম্প্রদায় একত্রিত হতে শুরু করল। ১৯ শে আগস্ট বঙ্গ পুলিশ বাহিনী সক্রিয় হল। তারা চাইল না, অবস্থার আরও অবনতি হোক। অথচ এই পুলিশই ১৬ তারিখ থেকে নিষ্ক্রিয় ছিল। বলা ভালো, তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। যেন প্রচ্ছন্ন নির্দেশ ছিল – ‘মানুষ (হিন্দু) মরছে, মরতে দাও।’

ঘটনার পরবর্তী ক্রমে আসে বাংলা ভাগের বিষয়টি। কিন্তু কোন্‌ ঘটনা পরম্পরায় তা ঘটল ?

বাংলা ভাগ

এক দিকে মহঃ জিন্নার দাবি মতো মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ তৈরি হচ্ছে – লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি সহ একাধিক অঞ্চল নিয়ে। এদিকে তৎকালীন বঙ্গদেশে অনেক অঞ্চল ছিল মুসলিম প্রধান। তারা কী চাইছে ? এটা ছিল একটা বড় প্রশ্ন। সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের পক্ষে শরৎচন্দ্র বসু ও তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী সোহ্‌রাবর্দী আলোচনায় বসলেন। কিন্তু কোনো সমাধান সূত্র বের হল না।

এরপর এল ভোটাভুটির ব্যাপার। সে সময়ের ১২০ প্রতিনিধি ভোট দিল গোটা বাংলা অবিভক্ত অবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হবে। আর ৯০ প্রতিনিধি এর বিপক্ষে ভোট দিল। এই সময় এগিয়ে এলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী।

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী সেই সময় গড়ে তুললেন গণ সংযোগ। হিন্দুদের তিনি বোঝাতে লাগলেন কোনোভাবেই পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না। তিনি সমস্ত হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করলেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। কেউ যদি পাকিস্তানের অংশ হতে চায় সে যেতে পারে কিন্তু হিন্দু প্রধান অঞ্চল ভারতেই থাকবে।

এরপরেই আসরে নামে ইংরেজ পক্ষ। তারা পুনরায় মুসলিম প্রধান ও হিন্দু প্রধান অঞ্চলে (পূর্ব ও পশ্চিম) ভোট করে বাংলা ভাগ হবে কিনা সিদ্ধান্ত নিতে বলে।

ভোট হল। তৎকালীন বাংলার মুসলিম প্রধান অঞ্চলের ১০৬ প্রতিনিধি চাইল বাংলা ভাগ না করেই পাকিস্তানে যোগ দিতে। আর হিন্দু অঞ্চলের ৫৮ জন প্রতিনিধি বাংলা ভাগ করতে চাইল। কেবল ২১ জন অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে সামিল করতে ভোট দিল। ফলে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হল।

দিনটি ছিল ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন।


পশ্চিমবঙ্গ দিবস | ২০শে জুন | প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব |

অন্যান্য প্রবন্ধ

বাংলার উৎসব
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
শিক্ষাবিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
বইমেলা
সাহিত্য ও সমাজ
তোমার প্রিয় সাহিত্যিক
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
বাংলার ঋতু বৈচিত্র্য

Leave a Reply