নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের কথা
সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধটি নবম শ্রেণির জন্য পাঠ্য। আমরা ইতিপূর্বে ইলিয়াস গল্পের বিষয়বস্তু ও প্রশ্নোত্তর দেখে নিয়েছি। আজকের আলোচনায় এই প্রবন্ধ থেকে লেখকের মূল বক্তব্য সহ আনুষঙ্গিক তথ্য ও প্রশ্নোত্তরগুলি জেনে নেব। তোমরা যদি মক টেস্ট দিতে আগ্রহী থাকো তাহলে এখানে ক্লিক কর।
নব নব সৃষ্টি – মূল কথা
বাংলা ভাষা নানাভাবে সংস্কৃত ও বিদেশি শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে নব নব সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঐশ্বর্যশালী হয়ে উঠেছে। তবে এর পাশাপাশি বাংলার নিজস্ব সম্পদও আছে। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি পদাবলী কীর্তনে। তাতেই খাঁটি বাঙালিয়ানার প্রকাশ। প্রসঙ্গত লেখক উল্লেখ করেছেন বাঙালি চরিত্রের বিদ্রোহী সত্তার কথা। বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের প্রবেশ এবং তার ব্যবহারের ফলে বাংলা সাহিত্য কীভাবে নব নব সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে বা উঠছে তা দেখিয়েছেন লেখক। প্রবন্ধে লেখকের মননশীলতা ও যুক্তি যেমন আছে তেমনি ভাষার সহজতা, সারল্য এই প্রবন্ধকে করে তুলেছে সুখপাঠ্য।
প্রাসঙ্গিক তথ্য ও টীকা
উৎস – চতুরঙ্গ প্রবন্ধগ্রন্থ
সংস্কৃত ভাষাঃ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম একটি ভাষা। প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ সহ ধ্রুপদী সাহিত্য রচিত হয়েছে এই ভাষায়। কালিদাস, শুদ্রক, পাণিনি, ভর্তৃহরি এই ভাষার অন্যতম কবি।
আবেস্তাঃ ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম একটি ভাষা। বর্তমান ইরানের ভাষা। সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে এই ভাষার কিছু সাদৃশ্য আছে।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীঃ বিখ্যাত পণ্ডিত। ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধিতে ভূষিত। নেপাল থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। বিখ্যাত উপন্যাস ‘বেনের মেয়ে’।
প্রেমচন্দ্রঃ হিন্দি ও উর্দু সাহিত্যের খ্যাতনামা লেখক। মুন্সি প্রেমচাঁদ হিসেবেও পরিচিত। প্রকৃত নাম ধনপত রায়। ‘গোদান’, ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ তাঁর বিখ্যাত রচনা।
ভাটিয়ালিঃ এক বিশেষ শ্রেণির লোকসঙ্গীত। পূর্ব বাংলার নদীবহুল অঞ্চলে মাঝিরা নৌকাচালনার সময় এই গান করে। জীবনের নানা প্রসঙ্গ ধরা থাকে এই গানে।
মুর্শিদিঃ ভাটিয়ালির মতই এক বিশেষ শ্রেণির লোকসঙ্গীত। তবে এই গানের বিষয় দেহাত্মবাদ। মূলত মুসলমান সমাজে এই গান প্রচলিত।
বাউলঃ দেহাত্মবাদী সাধক সম্প্রদায় বাউলদের নিয়ে রচিত এই গান। আত্মানুসন্ধানের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভ এই গানের অন্যতম বিষয়।
প্রশ্নোত্তর পর্ব – এককথায় উত্তর
১. লেখকের মতে কোন্ ভাষা আত্মনির্ভরশীল ?
উঃ সংস্কৃত ভাষা
২. হিন্দি থেকে কোন ভাষা তাড়াতে বহু সাহিত্যিক উঠে পড়ে লেগেছেন ?
উঃ আরবি, ফার্সি, ইংরেজি
৩. বাংলায় ‘ইনকিলাব’, ‘শহিদ’ শব্দ কে ঢুকিয়েছেন ?
উঃ নজরুল ইসলাম
৪. লেখক কাকে হিন্দির বঙ্কিম বলেছেন ?
উঃ প্রেমচন্দকে
৫. ‘বসুমতী’র সম্পাদকীয় রচনার ভাষা এক’ – ‘বসুমতী’র সম্পাদক কে ছিলেন ?
উঃ হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ
৬. লেখক কোন ভাষা প্রসঙ্গে বলেছেন ‘আমরা অন্যতম প্রধান খাদ্য থেকে বঞ্চিত হব’ ?
উঃ সংস্কৃত
৭. ‘চণ্ডী থেকে আরম্ভ করে হুতোম পর্যন্ত’ – হুতোম কে ?
উঃ কালীপ্রসন্ন সিংহ
৮. লেখকের মতে উর্দু সাহিত্যের মূল সুর কোন ভাষার সঙ্গে বাঁধা ?
উঃ ফার্সি
৯. বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য সৃষ্টি কোনটি ?
উঃ পদাবলী কীর্তন
১০. ইকবাল কোন ভাষার কবি ?
উঃ উর্দু
১১. লেখকের মতে বাঙালি চরিত্রে বিদ্যমান –
উঃ বিদ্রোহ
১২. লেখকের মতে ‘আইন-আদালত খাজনা-খারিজ’ কোন যুগে নতুনভাবে দেখা দিয়েছে ?
উঃ পাঠান ও মোগল যুগে
১৩. লেখকের মতে কোন শব্দ বা দ্রব্য রান্নাঘর থেকে তাড়ানো মুশকিল ?
উঃ আলু-কপি
১৪. কে লিখেছেন, ‘আব্রু দিয়ে, ইজজৎ দিয়ে ইমান দিয়ে’।
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৫. লেখকের মতে কে সাধু ভাষায় বিদেশি শব্দ ব্যবহার করতেন না ?
উঃ বিদ্যাসাগর
১৬. ‘আলাল ও হুতোম’ – ‘আলাল’ কার রচনা ?
উঃ প্যারীচাঁদ মিত্র
১৭. শঙ্করদর্শনের প্রণেতা কে ?
উঃ শঙ্করাচার্য
১৮. বাংলায় প্রবেশ করা বিদেশি শব্দের মধ্যে কোনটি প্রধান ?
উঃ আরবি, ফারসি, ইংরেজি
১৯. বাংলা শব্দভাণ্ডারের কোন শব্দগুলি নিয়ে লেখক দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন ?
উঃ পোর্তুগীজ, ফরাসি, স্প্যানিশ
২০. লেখকের মতে কোন দুই ভাষা থেকে ব্যাপকভাবে নতুন কোনো শব্দ আর ঢুকবে না ?
উঃ আরবি ও ফার্সি