ধীবর বৃত্তান্ত – কালিদাস
নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন গ্রন্থের একটি মূল্যবান পাঠ্য হল মহাকবি কালিদাস রচিত ধীবর বৃত্তান্ত নাট্যাংশটি। হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ একটি নাটকের ছোট্ট অংশ মাত্র। পুরো নাটকটির নাম তোমরা প্রায় সকলেই জান – ‘অভিজ্ঞানম্ শকুন্তলম্’। আজ আমরা এই আলোচনায় পাঠ্য নাট্যাংশটি থেকে নানা তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলি দেখে নেব। তাঁর আগে অবশ্যই আমরা লেখক পরিচিতি সহ মূল কাহিনির পূর্বসূত্রটি জেনে নেব।
লেখক পরিচিতি
মহাকবি কালিদাস হলেন প্রাচীন ভারতের সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। কবি কালিদাসের জন্মস্থান নিয়ে তিনটি মতবাদ প্রচলিত আছে। বাংলা, কাশ্মীর, উজ্জয়নী নানাজনে নানা স্থানের নাম উল্লেখ করলেও উজ্জয়নীই কালিদাসের জন্মস্থান বলে অধিকাংশ পণ্ডিতগণ মনে করেন। তবে তিনি যে বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার অন্যতম সভাকবি ছিলেন তা ইতিহাসসিদ্ধ। তাঁর আবির্ভাব আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। কালিদাস একছত্র বাংলা না লিখলেও মধ্যযুগ তথা আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব অপরিসীম। মহাকবি কালিদাসের রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কুমারসম্ভবম্’, ‘রঘুবংশম্’, ‘অভিজ্ঞানম্ শকুন্তলম্’, ‘মালবিকাগ্নিমিত্রম্’, ‘বিক্রমোর্বশীয়ম্’, ‘মেঘদুতম্’ ইত্যাদি।
ধীবর বৃত্তান্ত – পূর্বসূত্র
মহর্ষি কন্বের আশ্রমে শকুন্তলাকে দেখে মুগ্ধ হন রাজা দুষ্মন্ত। মহর্ষির অনুপস্থিতিতে তিনি শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলার খোঁজ নেন না। এদিকে শকুন্তলা স্বামীর চিন্তায় মগ্ন থাকাকালীন একদিন ঋষি দুর্বাসা তপোবনে আসেন। শকুন্তলা দুর্বাসার আগমন বুঝতে পারেন না। এতে ঋষি অপমানিত বোধ করেন এবং শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যাক্তি তাকে বিস্মৃত হবে। অবশেষে শকুন্তলার বিশিষ্ট সখী প্রিয়ম্বদার অনুরোধে রুষ্ট দুর্বাসা কিছুটা প্রীত হয়ে বলেন, যদি শকুন্তলা কোনো নিদর্শন দেখাতে পারেন তবে শাপের প্রভাব দূর হবে।

পরিণয়কালে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে একটি আংটি দিয়েছিলেন। সখীদের ভাবনায় আসে সেই আংটিটিই হবে ঋষি দুর্বাসা কথিত নিদর্শন। এদিকে তীর্থ থেকে ফিরে মহর্ষি কণ্ব সব শুনে শকুন্তলাকে তার পতিগৃহে প্রেরণের আয়োজন করলেন। পতিগৃহে যাবার পথে শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় শকুন্তলার হাত থেকে খুলে পড়ে যায় সেই আংটি। ঘটনাক্রমে এক ধীবরের হাতে পৌঁছয় সেই আংটি।
পাঠ্য নাট্যকাহিনি
এক ধীবর নগরে একটি আংটি বিক্রি করতে গেলে নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী ধীবরকে চোর সন্দেহে আটক করে। ধীবরকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং আংটি প্রাপ্তির সমস্ত ঘটনা পূর্বাপর বলতে বলে। তখন ধীবর তার পরিচয় দেয় – সে কী করে, কোথায় থাকে ইত্যাদির উল্লেখসহ আংটি পাওয়ার বৃত্তান্ত বর্ণনা করে। কিন্তু সন্দেহ নিরসন না হওয়ায় দুই রক্ষীকে অপেক্ষা করতে বলে রাজ্যশ্যালক ধীবরকে সঙ্গে নিয়ে রাজবাড়িতে যান। এদিকে দুই রক্ষী ধীবরকে নিয়ে পারস্পরিক কথোপকথনে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে।
এরপর ধীবরকে সঙ্গে নিয়ে রাজশ্যালক ফিরে আসেন। তিনি জানান সমস্ত ঘটনা যাচাইয়ের পর এটাই পরিষ্কার যে ধীবর সত্যকথা বলেছে। অতএব ধীবরকে মুক্ত করতে তিনি রক্ষীদের আদেশ দেন। রাজশ্যালক আরও জানান ধীবরের আংটির মুল্যের সমপরিমান অর্থ মহারাজ খুশি হয়ে দিয়েছেন। ধীবরকে প্রদত্ত মহারাজের অনুগ্রহ তথা পারিতোষিক দেখে রক্ষীরা তার প্রতি হিংসা ভরা দৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু বিনয়ী ও নির্লোভী ধীবর তার প্রাপ্য অর্থের অর্ধেক ফুলের দাম হিসেবে রক্ষীদের প্রদান করে। রাজশ্যালক ধীবরের এই ব্যবহারে খুশি হয়ে তাকে বন্ধু হিসেবে বরণ করে নেন।
প্রশ্নোত্তর পর্ব – এককথায় উত্তর
১. ধীবর বৃত্তান্ত নাটকটির মূল উৎস কী ?
উঃ অভিজ্ঞানম্ শকুন্তলম্ নাটকের ষষ্ঠ অঙ্ক
২. মূল নাটক থেকে আলোচ্য নাট্যাংশটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন ?
উঃ সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী
৩. ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে মোট কতগুলি চরিত্র পাওয়া যায় ?
উঃ চারটি
৪. ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে প্রথম রক্ষীটির নাম কী ?
উঃ সূচক
৫. ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দ্বিতীয় রক্ষীটির নাম কী ?
উঃ জানুক
৬. নাট্যাংশ অনুসারে নগর রক্ষায় নিযুক্ত ব্যক্তিটি কে ?
উঃ রাজশ্যালক
৭. ধীবর কিভাবে সংসার চালায় ?
উঃ মাছ ধরে
৮. ধীবরের গা থেকে কীসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল ?
উঃ কাঁচা মাংসের
৯. ধীবরকে ‘ব্যাটা বাটপাড়’ বলে কে সম্বোধন করেছে ?
উঃ জানুক
১০. আংটিটি পাওয়া গিয়েছিল কোন মাছের পেট থেকে ?
উঃ রুই মাছ
১১. মাছের পেট থেকে প্রাপ্ত আংটিতে কার নাম খোদাই ছিল ?
উঃ রাজা দুষ্মন্তের
১২. ধীবর কোথায় থাকে ?
উঃ শক্রাবতারে
১৩. রাজা খুশি হয়ে ধীবরকে আংটির মূল্যের কত পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন ?
উঃ সমপরিমাণ
১৪. শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন কোন ঋষি ?
উঃ ঋষি দুর্বাসা
১৫. কার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার প্রতি তাঁর অভিশাপ কিছু লঘু করেছিলেন ?
উঃ প্রিয়ম্বদা
১৬. শকুন্তলার হাতের আংটিটি খুলে যায় কোন সময়ে ?
উঃ অঞ্জলি দেবার সময়
১৭. কে জেলের হাতের বাঁধন খুলে দিয়েছিল ?
উঃ দ্বিতীয় রক্ষী
১৮. জেলেকে হিংসা ভরা দৃষ্টিতে কে দেখেছিল ?
উঃ জানুক
১৯. ধীবর তার প্রাপ্ত পারিতোষিকের কতটা পরিমাণ অর্থ রক্ষীদের দিয়েছিল ?
উঃ অর্ধেক
২০. ‘এটা তুমি ঠিকই বলেছে’ – বক্তা কে ?
উঃ জানুক